শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
আজহারুল ইসলাম সাদী:
তীব্র দাহদাহ আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরার মানুষের জীবন।
এর ই মাঝে সোমবার সন্ধ্যায মেঘের ঘনঘটা আর তারপরেই নামল বহুল প্রতীক্ষিত এক পশলা বৃষ্টি। ধূলিমলিন শহর আর তপ্ত প্রকৃতি মুহূর্তেই রূপ নিল এক স্নিগ্ধ, শান্ত অবয়বে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছিল। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট হয়ে পড়ছিল জনমানবহীন। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছিলেন খেটে খাওয়া মানুষ ভ্যানচালক, দিনমজুর আর পথচারীরা। এ যেন ছিল এক অনন্ত চাতকের অপেক্ষিক কবে কখন আসবে মেঘ, কবে নামবে বৃষ্টি।
সোমবার বিকেল নামতেই আকাশের কোণে জমতে শুরু করে কালচে মেঘের ভেলা। এরপরই শুরু হয় ঝিরঝিরে হাওয়া। চারদিকের তপ্ত বাতাস নিমেষেই শীতল হয়ে ওঠে। তারপরই সন্ধ্যায় নামে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি না হলেও, প্রায় আধা ঘণ্টার এই মাঝারি বৃষ্টিপাত পুরো সাতক্ষীরা শহর ও তার আশপাশের অঞ্চলে এনে দিয়েছে এক পরম স্বস্তি।
কয়েকজন জানান, এই বৃষ্টিটা যেন প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। বুক ভরে একটু ঠান্ডা বাতাস নেওয়া যাচ্ছে এখন।”
বৃষ্টির পর সাতক্ষীরা শহরের চেনা রূপটাই যেন বদলে গেছে। শহরের পার্ক ও বাড়ির ছাদবাগানের গাছগুলোর পাতা থেকে ধুলোবালি ধুয়ে গিয়ে বের হয়ে এসেছে চকমকে সবুজ রঙ। প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
বৃষ্টি নামতেই চিরন্তন বাঙালি স্বভাবের মতো শহরের গলিগুলোতে মেতে উঠেছিল শিশুরা। বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ যেন সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির পর আবহাওয়া শীতল হতেই শহরের মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে স্বস্তির আড্ডায় মেতে ওঠেন সব বয়সী মানুষ।
এই বৃষ্টি কেবল শহরের মানুষের মনেই স্বস্তি আনেনি, এনেছে প্রান্তিক কৃষকদের মুখেও। চলতি মৌসুমের ফসলের জন্য এই এক পশলা বৃষ্টি অত্যন্ত উপকারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। পাট এবং শাকসবজির ফলন ভালো রাখতে এই বৃষ্টি দারুণ ভূমিকা রাখবে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান সহকারী জুলফিকার আলী রিপন জানান, সোমবার দুপুরে জেলার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির পর রাত ৯টায় সেই তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে নেমে আসে। রাত ৮টার দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। জেলায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি আরও জানান, জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যায়।
All rights reserved © 2020-2024 dainikparibarton.com
অনুমতি ব্যতিত এই সাইটের কোনো কিছু কপি করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।